Posts

নিজের স্বার্থের জন্য অন্যদের ক্ষতি করো না

একবার এক ব্যাধের ফাদে এক পাখি ধরা পড়ল। ধরা পড়ার পর পাখিটা ব্যাধকে অনেক কাকুতি মিনতি করে বলতে লাগল,ভাই,তুমি আমাকে ছেড়ে দাও আমার অনেক কাজ আছে।  আমি শপথ করে বলছি,তুমি যদি আজ আমায় ছেড়ে দাও তাহলে আমি আরও অনেক পাখিকে ভুলিয়ে ভালিয়ে তোমার ফাদে ফেলব। ভেবে দেখ বন্ধু,এতে তোমার কত লাভ। একটি পাখির বদলে তুমি কত পাখি পেয়ে যাবে! ব্যাধ উত্তরে বলল হু,তোমার কথা শুনলাম। শুধু এই জন্যই তোমায় আমি ছাড়ব না। যে নিজের সার্থের দিকে চেয়ে নিজের আত্নীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবের সর্বনাশ করতে পারে তার মৃত্যু হলেই জগতের মঙ্গল। নীতি কথাঃ নিজের তুচ্ছ প্রানের জন্য অন্য দশজনের প্রান বলি দেবার কথা যে বলে তার দোশ ক্ষমার অযোগ্য ।

মানসিক ক্ষত শারীরিক ক্ষতের চেয়েও ভয়ংকর

খুব ছোট্ট এক ছেলে প্রচন্ড রাগী ছিলো। তার বাবা তাকে একটা পেরেক ভর্তি ব্যাগ দিল এবং বললো যে,যতবার তুমি রেগে যাবে ততবার একটা করে পেরেক আমাদের বাগানের কাঠের বেড়াতে লাগিয়ে আসবে। প্রথমদিনেই ছেলেটিকে বাগানে গিয়ে ৩৭ টি পেরেক মারতে হলো। পরের কয়েক সপ্তাহে ছেলেটি তার রাগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনতে পারলো, তাই প্রতিদিন কাঠে নতুন পেরেকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে এলো। সে বুঝতে পারলো হাতুড়ী দিয়ে কাঠের বেড়ায় পেরেক বসানোর চেয়ে তার রাগকে নিয়ন্ত্রনকরা অনেক বেশি সহজ। শেষ পর্যন্ত সেই দিনটি এলো যেদিন তাকে একটি পেরেকও মারতে হলো না।  সে তার বাবাকে এই কথা জানালো। তারা বাবা তাকে বললো এখন তুমি যেসব দিনে তোমার রাগকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে পারবে সেসব দিনে একটি একটি করে পেরেক খুলে ফেলো। অনেক দিন চলে গেল এবং ছেলেটি একদিন তার বাবাকে জানালো যে সব পেরেকই সে খুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।  তার বাবা এবার তাকে নিয়ে বাগানে গেল এবং কাঠের বেড়াটি দেখিয়ে বললো,'তুমি খুব ভাল ভাবে তোমার কাজ সম্পন্ন করেছো,এখন তুমি তোমার রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারো কিন্তু দেখো, প্রতিটা কাঠে পেরেকের গর্ত গুলো এখনো রয়ে গিয়েছে। কাঠের বেড়াটি কখনো আগ...

জায়গামত বাড়ি খান

একটি জাহাজ যান্ত্রিক গোলযোগের দরুণ বেশ কিছুদিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। জাহাজটি মেরামতের জন্য জাহাজটির মালিক ও ক্যাপ্টেন এর আন্তরিক চেষ্টার কোনও কমতি নেই। আজ এক জনকে, কাল অন্য জনকে, পরশু আরেকজনকে দিয়ে চেষ্টা তারা চালিয়েই যাচ্ছিলেন। কিন্তু কারো পক্ষেই এই জাহাজটিকে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছিলো না।  দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও যখন কোন কুল কিনারা করতে পারছিলেন না তখন এক বৃদ্ধ লোকের ডাক পড়ল। লোকো মুখে শোনা যায় এই বৃদ্ধ নাকি তার যৌবনকালে ঠিক এমনই একটি সমস্যার সমাধান করেছিলেন।  বয়োবৃদ্ধ ভদ্রলোক তার বিশাল এক যন্ত্রপাতির বাক্সসহ হাজির হয়ে দ্রুতই কাজে নেমে পড়লেন। বৃদ্ধ লোকটি ইঞ্জিনের শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সানডারল্যান্ড সমুদ্রবন্দরে বিরাটাকায় খুবই সতর্কতার সথে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরখ করে দেখলেন। জাহাজের মালিক তার অদম্য কৌতূহলের বশে বৃদ্ধর সাথে সবসময় আঠার মতো লেগে থাকলেন এবং বোঝার চেষ্টা করলেন বৃদ্ধ কিভাবে জাহাজটি মেরামত করেন।  পরিদর্শন শেষ করে বৃদ্ধলোকটি তার বিশাল যন্ত্রপাতির বহর থেকে একটি ছোট্ট হাতুড়ি বের করে ধীরে সুস্থে ইঞ্জিনের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় হ...

সমস্য়াকে সম্ভাবনায় পরিণত করুন

এক কৃষকের গাধা গভীর কুয়ায় পড়ে গেলো। গাধাটা করুণ সুরে কেঁদে কৃষকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাতে লাগলো। কৃষক ভাবলো যেহেতু গাধাটা বৃদ্ধ হয়ে গেছে, কাজেই একে উদ্ধারের ঝামেলায় না গিয়ে মাটি ফেলে কুয়ার মাঝেই কবর দিয়ে ফেললেই ল্যাঠা চুকে যায়। কাজেই কৃষক শাবল দিয়ে মাটি ফেলতে লাগলো গাধার উপর। প্রথমে গাধা ঘটনা আঁচ করতে পেরে চিৎকার করে গলা ফাঁটিয়ে কাঁদতে লাগলো। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সব শান্ত হয়ে গেলো। কৃষক এই নিরবতার কারণ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে কুয়ার ভিতর উঁকি দিয়ে অবাক হয়ে গেলো। প্রতিবার যে ই গাধাটার উপর মাটি ফেলা হয়েছে, সে তা পিঠ ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিয়ে সেই মাটিকে ধাপ বানিয়ে একধাপ একধাপ করে বেশ খানিকটা উপরে উঠে এসেছে। এটা দেখে কৃষক আরো মাটি ফেললো এবং পরিশেষে গাধাটা বের হয়ে আসলো কুয়া থেকে। মরালঃ জীবন আপনার উপর শাবল ভর্তি মাটি ফেলবে এটাই স্বাভাবিক। আপনার কাজ হচ্ছে সেই চাপা দেয়ার একদিন মাটিকেই কাজে লাগিয়ে উপরে উঠা। প্রতিটি সমস্যাই আসলে সমাধানের একটি করে ধাপ, যদি আপনি তা কাজে লাগানোর মতো ইতিবাচক হয়ে থাকেন। যেকোন সুগভীর কুয়া থেকেই মুক্তিলাভ সম্ভব, যদি না আপনি হাল ছেড়ে দেন।  জীবনে সুখী হওয়ার ৫ টি সহজ ...

মানুষকে সাহায্য করুন , যতটা আপনার পক্ষে সম্ভব

একদিন একটা গরীব ছেলে রাস্তায় হাঁটছিলো । সে তার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করার জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতো । ছেলেটার গায়ে ছিলো একটা জীর্ন মলিন পোষাক । সে ভীষণ ছিলো । ... সে ভাবলো যে পরে যে বাসায় যাবে , সেখানে গিয়ে সে কিছু খাবার চাইবে । কিন্তু সে যখন একটা বাসায় গেলো খাবারের আশা নিয়ে , সে ঘর থেকে একজন সুন্দরী মহিলা বেরিয়ে এলেন । সে খাবারের কথা বলতে ভয় পেলো । সে খাবারের কথা না বলে শুধু এক গ্লাস পানি চাইলো ।  মহিলা ছেলেটার অবস্থা দেখে বুঝলেন যে সে ক্ষুধার্থ । তাই তিনি ছেলেটাকে একটা বড় গ্লাস দুধ এনে দিলেন । ছেলেটা আস্তে আস্তে দুধটুকু খেয়ে বলল"আপনাকে আমার কত টাকা দিতে হবে এই দুধের জন্য ?" মহিলা বলল "তোমাকে কোন কিছুই দিতে হবে না । ছেলেটা বলল "আমার মা আমাকে বলেছেন কখনো করুণার দান না নিতে । তাহলে আমি আপনাকে মনের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি ।"  ছেলেটার নাম ছিলো স্যাম কেইলি । স্যাম যখন দুধ খেয়ে ঐ বাড়ি থেকে বের হয়ে এল , তখন সে শারিরিকভাবে কিছুটা শক্তি অনুভব করলো । স্যাম এর বিধাতার উপর ছিলো অগাধ বিশ্বাস । তাছাড়া সে কখনো কিছু ভুলতো না ।  অনেক ...

ভালো কাজগুলো ডায়মন্ডের মত

একদা এক দিন কিছু লোক এক অন্ধকার টানেল অতিক্রম করে যাচ্ছিল। হঠাৎ পায়ের তলায় সূচাল পাথর জাতীয় কিছু অনুভব করল তারা ...। এদের কেউ কেউ তখন সে পাথরগুলো তুলে পকেটে ভরে নিল --- অন্যরা যেন কষ্ট না পায় এই ভাল নিয়তেই তারা এটা করেছিল। কেউ কিছু নিল, আর কেউ নিলই না। অবশেষে যখন অন্ধকার টানেল থেকে বের হল, দেখল তাদের কুড়ানো পাথরগুলো ছিল ডায়মন্ড/হীরা- তারা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। যারা কম নিয়েছিল তাদের বেশ আফসোস হচ্ছিল যে কেন আরও বেশি তারা তুলে নিল না; আর একেবারেই যারা নেয় নি তারা আরও বেশ অনুশোচনা করতে লাগলো। এই দুনিয়া ঠিক এই অন্ধকার টানেলের মতই। আর এখান কার ভালো কাজগুলো ডায়মন্ডের মত... আখেরাতে যাদের ভালো কাজের পরিমাণ কম হবে, তারা আফসোস করতে থাকবে কেন আরও ভালো কাজ তারা দুনিয়ায় করেনি !!! তাই দুনিয়াতে যত ছোটই হোক না কেন, কোন ভাল কাজ এড়িয়ে যাবেন না। কারণ একদিন নিশ্চিত এই ভাল কাজগুলোই ডায়মন্ডের মত মনে হবে।

যে নিজেকে সাহায্য করে না,আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন না

একবার এক লোক পাহাড়ী অঞ্চলে বেড়াতে গেল। ঘুরতে ঘুরতে সে একটি কাক দেখলো যার দুটি ডানাই কাটা ছিলো। কাকটির এই অবস্থা দেখে সে ভীষন দুঃখ পেয়ে মনে মনে ভাবলো, এটা নিশ্চয়ই কোনো দুষ্ট ছেলের কাজ। সে ভাবলো,  হায় আল্লাহ এই কাকটি এখন উড়বে কিভাবে? আর যদি সে তার খাবারই সংগ্রহ না করতে পারে তবে সে বাঁচবে কিভাবে ?  এসব যখন সে ভাবছিলো তার কিছুক্ষণ পর সে দেখলো সেখানে এক ঈগল উড়ে এলো যার ঠোঁটে ছিলো কিছু খাবার। খাবারগুলো সে কাকের সামনে ফেললো এবং সেখান থেকে উড়ে চলে গেল।  এই দৃশ্য দেখে সে অত্যন্ত অবাক হয়ে গেল। সে ভাবলো যে, " যদি এভাবেই আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখেন তবে আমার এত কষ্ট করে কাজ করার দরকার কি? আমি আজ থেকে কোনো কাজ করবো না,তিনিই আমাকে খাওয়াবেন "। সে কাজ করা বন্ধই করে দিলো। কিন্তু দুই তিনদিন পার হয়ে গেলেও সে কোনোখান থেকে কোনো সাহায্য পেল না।  এর কারন জানতে সে একজন জ্ঞানী লোকের কাছে গেল। তিনি তাকে বললেন, " তুমি দুটি পাখি দেখেছিলে। একটা সেই আহত কাক,আরেকটা সেই ঈগল।তুমি কেন সেইকাকটিই হতে চাইলে? কেন তুমি সেই ঈগলটির মত হতে চাইলে না যে নিজের খাবারতো যোগাড় করেই,সাথে যারা না খেয়ে আছ...